প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
nationaldailyamaderdesh.com
nationaldailyamaderdesh.com ঢাকা মিরপুর.১০
01880008666 | nationaldailyamaderdesh@gmail.com
সারাদেশ

কালিয়াকৈর পৌরসভা এলাকায় মশার উপদ্রব চরমে

প্রতিবেদক: জাতীয় দৈনিক আমাদের🔳দেশ প্রকাশ: Oct 2, 2026 প্রিন্ট: 08 Nov 2026, 12:09 PM
কালিয়াকৈর পৌরসভা এলাকায় মশার উপদ্রব চরমে

মোঃ খাইরুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর

গাজীপুরের শিল্পনগরী কালিয়াকৈর পৌরসভা এলাকায় মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানায় ভরাট ড্রেন, খাল-বিল ও ডোবা-নালায় জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার বাড়ছে। এতে পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না হওয়া এবং অধিকাংশ ড্রেন খোলা থাকায় বিভিন্ন স্থানে পানি জমে মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চন্দ্রা, মৌচাক, সফিপুর, কালিয়াকৈর বাজার ও হরতকীতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় পচনশীল আবর্জনা ও জমে থাকা পানিতে মশার উপদ্রব বেশি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে মশার উৎপাত বেড়ে যায়। ফলে শিশু, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষকে মশারির পাশাপাশি কয়েল ও অন্যান্য উপায়ে মশা থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করতে হচ্ছে। এর মধ্যে বিদ্যুতের লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। চন্দ্রা উত্তরপাড়ার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “সন্ধ্যা হলেই মশার আক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করে। লোডশেডিংয়ের কারণে বাচ্চাদের নিয়ে ঘুমানোও কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ পৌরসভার পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।” কালিয়াকৈর বাজারের বাসিন্দা শাহনাজ বেগম জানান, তাঁর দুই সন্তান ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার এবং নিয়মিত মশক নিধন অভিযান পরিচালনার দাবি জানান। সফিপুরের পোশাকশ্রমিক জাহাঙ্গীর আলম ও মৌচাকের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, মশার যন্ত্রণায় ঘরে ও দোকানে স্বাভাবিকভাবে অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পৌরসভাকে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ড্রেন ও জলাশয় পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু চিকিৎসার মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। তিনি পৌরসভাকে দ্রুত তিন দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি নিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে মশক নিধন অভিযান এবং কচুরিপানা ও আবর্জনা পরিষ্কারের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকেও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষ বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন ড্রেন ও খাল বর্জ্যে ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যর্থদের ছাড় দেওয়া হবে না। পৌর কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ফগিং মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন ও ড্রেন পরিষ্কারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।তিনি্য আরও বলেন, সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের লোডশেডিং কমানোর জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, একদিকে মশার উপদ্রব ও ডেঙ্গুর আতঙ্ক, অন্যদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিং—দুইয়ে মিলে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দ্রুত ড্রেন-খাল পরিষ্কার, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নিয়মিত মশক নিধন অভিযান পরিচালনা না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এ অবস্থায় কালিয়াকৈর পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ